এশিয়ার দেশগুলোয় চলতি সপ্তাহে চালের রফতানি মূল্য কমেছে। নিম্নমুখী চাহিদা পণ্যটির দরপতনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
এশিয়ায় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভিয়েতনাম। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে পণ্যটি দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে বেচাকেনা হচ্ছে।
ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের মূল্য ছিল টনপ্রতি ৪৬০ ডলার, যা ২০২৩ সালের মার্চের শেষের পর সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে প্রতি টন চাল ৪৮১ ডলারে বেচাকেনা হয়েছিল।
হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে দুর্বল চাহিদার কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধীর ছিল। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ বাজার পরিস্থিতি একই রকম থাকতে পারে।’
সরকারি তথ্যানুযায়ী, ভিয়েতনাম ডিসেম্বরে মোট ৫ লাখ ৯০ হাজার টন চাল রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে দেশটি ৯০ লাখ টন চাল রফতানি করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
ভিয়েতনামের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের দুর্বল চাহিদা এবং ভারত চাল রফতানি পুনরায় শুরু করায় কয়েক সপ্তাহ ধরে চালের দাম কমছে।
শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারতে ১৭ মাসের সর্বনিম্ন দামে চাল বেচাকেনা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের মূল্য টনপ্রতি ৪৩৬-৪৪২ ডলারে স্থিতিশীল ছিল। ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার নিম্নমুখী হওয়ায় দেশটিতে পণ্যটির চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।
এছাড়া ভারতীয় ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চাল চলতি সপ্তাহে টনপ্রতি ৪৪০-৪৪৯ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে। কলকাতাভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আমদানিকারকদের কাছে এ সপ্তাহে চালের যথেষ্ট চাহিদা ছিল। কারণ ভারতীয় চাল অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তা।
ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, ভিয়েতনাম ও ভারতে চালের দাম কমায় থাইল্যান্ডের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর ইন্দোনেশিয়া থেকেও চাহিদা কম থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া এক সপ্তাহ ধরে থাই বাথের বিনিময় হারও কমছে।
থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল চলতি সপ্তাহে টনপ্রতি ৪৮৫ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে, যা ২০২৩ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন। গত সপ্তাহে দেশটিতে প্রতি টন চাল ৪৯০-৫০২ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে।